ভারতীয় সভ্যতা কামনাকে কখনও নিছক প্রবৃত্তি বলে উড়িয়ে দেয়নি; তাকে ঘিরে গড়ে তুলেছিল দুটি সম্পূর্ণ জ্ঞানকাণ্ড। একটি কামশাস্ত্র—দিনের আলোর, যুক্তিনির্ভর, রাজসভা ও পাণ্ডুলিপির ঐতিহ্য, যা ঋগ্বেদের নাসদীয় সূক্ত থেকে বাৎস্যায়নের কামসূত্র হয়ে কোক্কোকের রতিরহস্য ও কল্যাণমল্লের অনঙ্গরঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যটি মোহিনীতন্ত্র—আচার-সর্বস্ব, ঐন্দ্রজালিক পরম্পরা, যেখানে বশীকরণ, মোহন ও আকর্ষণের মন্ত্র গুরু থেকে শিষ্যের হাতে বাহিত হয়ে আজও বেঁচে আছে কামাখ্যার পীঠে, দশ মহাবিদ্যার মন্দিরে, শৈব-শাক্ত সাধকের তালপাতার পুঁথিতে।
ড. হিমাংশু দত্ত চৌধুরীর এই গ্রন্থ কামাখ্যার অম্বুবাচী মেলার এক জুনের সকাল থেকে যাত্রা শুরু করে একটিই মৌলিক প্রশ্ন সামনে রাখে: এই দুই ঐতিহ্য কি প্রকৃতিগতভাবে আলাদা, নাকি একই নদীর দুটি শাখা, যাদের মাঝে দাঁড় করানো হয়েছে এমন এক বাঁধ যা কোনোদিন থাকার কথা ছিল না? বিশটি অধ্যায় জুড়ে লেখক দেখান কীভাবে ব্রাহ্মণ্য মোক্ষতত্ত্ব এবং পরে ঔপনিবেশিক নৈতিকতা—দুই পর্যায়ে কামনার এই অখণ্ড ঐতিহ্যকে ভাগ করেছে, কুসংস্কার ও অশ্লীলতার তকমা দিয়েছে, এবং তার প্রাতিষ্ঠানিক ধারকদের—শিক্ষিত গণিকা, দেবদাসী, নাথ-অঘোরী-সহজিয়া সাধক—নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে।
এই বইয়ে পাঠক খুঁজে পাবেন:
- ঋগ্বেদ থেকে বাৎস্যায়ন—কামনাকে বিদ্যা হিসেবে গড়ে তোলার ইতিহাস
- নাগরিকের জীবনযাত্রা, নারীর আকাঙ্ক্ষা ও শৃঙ্গার-রসের নন্দনতত্ত্ব
- মোহিনী, রক্তস্নাতা দেবী, ষট্কর্ম ও সম্মোহনের তান্ত্রিক প্রক্রিয়া
- ত্রিপুরাসুন্দরী, বামাচার-দক্ষিণাচার এবং বাংলার নিজস্ব সাধনধারা
- খাজুরাহো-কোণারকের পাথর, জয়দেবের গীতগোবিন্দ ও কাশ্মীর শৈবদর্শনের সাক্ষ্য
পাণ্ডিত্য ও কাহিনির সাবলীল মেলবন্ধনে লেখা এই গ্রন্থ কামনার ইতিহাসকে ফিরিয়ে দেয় তার আপন, অখণ্ড ঠিকানায়।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.