জানি না অভিধানে ‘প্রথম লিঙ্গ’ অথবা ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ এই শব্দদুটির কোনও অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা, তবে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ নামক একটি লজ্জাজনক শব্দের জন্ম আমরাই দিয়েছি, যারা নিজেদেরকে স্বাভাবিক (!) মানুষ হিসেবে গণ্য করে থাকি। একবিংশ শতকে দাঁড়িয়েও ট্রান্সজেন্ডার বললেই লোকে বোঝে হিজড়া, আপামর নারী-পুরুষকে উত্যক্ত করা ব্যতিত যাদের দ্বিতীয় কর্মটি নেই। সেই সঙ্গে শুরু হয় এক ক্লান্তিকর আর যন্ত্রণামুখর অধ্যায়ের। এই উপন্যাসের নায়ক আব্বাস ওয়ারিশ একজন শিল্পী। সে একজন transformative অর্থাৎ রূপান্তরকামী। কিন্তু দিনের শেষে সে-ও আমাদের মত তথাকথিত ভদ্রজনের একজন প্রকৃত বন্ধু, এক আদর্শ প্রেমী, একটি আপোষহীন শিল্পীসত্ত্বা। আর তাকে ঘিরে এক অপূর্ব বৃত্ত রচনা করে তার বন্ধুরা। আজিজ আহমেদ, অর্জুন হালদার, মীর কুরেশি, বিলাল আয়াদ, প্রসাদ চক্রবর্তী, চন্দ্রশেখর ডিন্ডা আর করিম বাশার। সেই বৃত্তের মধ্য থেকে আকস্মিক উত্থিত হয় একটি ডায়েরি। আব্বাস ওয়ারিশের ডায়েরি। কী লেখা আছে সে ডায়েরিতে? কী হল আব্বাস ওয়ারিশের সেই অসম জীবনযুদ্ধের শেষ পরিণতি? আর সম্ভবত সেই কারণেই আব্বাসের মত অগণিত মানুষ চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘ফাঁকা ঘর সব সময়েই বড় লাগে। পছন্দের আসবাবে ভরে গেলেই সেই ঘর ক্রমে ছোট হয়ে আসে।’
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.