তমাল কড়া গলায় বলল, ‘পাকাপাকি রোজগারের ব্যবস্থা তো করে দিতে চাই, তুই-ই তো এড়িয়ে যাস।’
আমি হেসে বললাম, ‘জানিসই তো সাগরের থিওরি হল, যখন দরকার, তখন রোজগার/অন্য সময় ভাগ, তেরে কেটে তাক্। এই ভাগ হল চাকরির নিয়ম আর খাটাখাটনিকে ভাগিয়ে দেওয়া। থিওরি কেমন?’
তমাল দাঁত কিড়িমিড়ি করে বলল, ‘খুব খারাপ থিওরি। কাল সকালে আমাকে যেন অপেক্ষা করতে না হয়।’
মনে হচ্ছে, তমালকে আজ সেই অপেক্ষা করতেই হবে। রোজই আমি অতিরিক্ত বেলা করে বিছানা ছাড়ি। সেই বেলার নামই দিয়েছি ‘সাগরবেলা’। কাকেরা খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে বলে আলো ফোটা সকালের নাম যদি ‘কাকভোর’ হতে পারে, আমি বেলা করে ঘুম থেকে উঠলে সেই বেলার নাম ‘সাগরবেলা’ হবে না কেন? কাকেরা যতই খটখটে হোক না কেন, ‘কাকভোর’ নামটা ভারী সুন্দর। কেমন একটা ‘স্নিগ্ধ’ ভাব রয়েছে। তাই না? ‘কাকচক্ষু’ও তাই। এই সব নাম কি কাকেরা নিজেই দিয়েছে? নাম দেওয়ার মতো সৌভাগ্যের কপাল বেচারিদের নেই। সে ক্ষমতা রয়েছে শুধু মানুষেরই। অনেক মানুষই নাম-এক্সপার্ট হয়। যে-কোনো কিছুর নাম চট করে দিয়ে দিতে পারে। আমার এক মেসোমশাইয়ের এই ক্ষমতা ছিল। তিনি মানুষ তো বটেই বাড়ি, গাড়ি, এমনকি হাঁচি-কাশিরও নাম দিতেন। নাক ডাকার নাম দিয়েছিলেন ‘শ্রীমান ফুড়ুৎ’। রাতে হাঁক পাড়তেন- ‘কই
হে শ্রীমান ফুড়ুৎ কখন আসবে? এসো বাপু দুটো গল্প করি।’
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.