বাংলা সাহিত্যে মহিলা ঔপন্যাসিকদের মধ্যে আশাপূর্ণা দেবীর লেখনী জনপ্রিয়তা ও গুণগত উৎকর্ষে একটি দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে। যদিও তাঁর সাহিত্য- প্রতিভার বিকাশ ব্যক্তি, পরিবার ও গার্হস্থ্যজীবনকে কেন্দ্র করে, কিন্তু তাঁর সাহিত্যকৃতি পদ্ধবের মতো সেইখানেই স্থিতিলাভ করেনি, বরং কূলভাঙা গতিতে ঘটনাপ্রবাহের দুই পার প্লাবিত করে বাঙালির বৃহত্তর সামাজিক পটভূমিকায় সে প্রতিভা বিস্তার লাভ করেছে। তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও ক্ষুরধার লেখনী বাঙালির সংসার জীবনের উপরকার মোহজাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে তার রাজবা দেখিয়েছে। সাহিত্যসৃষ্টির আয়েশেই বুঝেছিলেন যে সমাজকে বাদ দিয়ে সারি সম্ভব নয়, কারণ সাহিত্য সমাজেদার দর্পন সেই সামাজিক জীবন থেকে অনেক হবে য দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর পরিচিত জগৎ। কেবলমাত্র দৃষ্টি ও শ্রুতির সাহায্যে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন সেই জগৎকে। জানলার ফাঁক-ফোকর থেকে যতটুকু দেখা যায় শিল্পসৃষ্টির পক্ষে তাই যথেষ্ট- এই ছিল তাঁর দৃঢ় প্রতীতি। যে সময়ে তাঁর সাহিত্যে আবির্ভাব তখন পারিবারিক বিধিনিষেধের কঠিন জাঁতাকলে বাইরের জগতে প্রবেশের অধিকার ছিল না নারীজাতির। কিন্তু তাঁর লেখনীর যাদুস্পর্শে মনের আয়নায় তিনি ভিতর-বাইরের ব্যবধান ঘুচিয়েছেন অবলীলাক্রমে। পারিবারিক জীবন থেকে কলরবমূখর সামাজিক জীবনে উত্তরণ তাঁর কোন কোন উপন্যাসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। কল্প রোমান্সের নায়িকা এবং ঘরোয়া জীবনের ভারবাহী বাঙালি মেয়েদের দুটি মূর্তি তিনি বিচিত্র কৌশলে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিভিন্ন উপন্যাসে, ছোটগল্পে ছড়িয়ে থাকা তারই ব্যাপক নিদর্শন পাঠকদের সামনে উপস্থাপিত করার জন্য এই রচনাবলী প্রকাশের আয়োজন।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.