বাংলার জমিদার, মহারাজা বা উচ্চবিত্ত বাঙালি শিকারীরা, যখনই শিকার স্মৃতি লিখতে বসেছেন, অরণ্যের সৌন্দর্য থেকে কেউ কিন্তু মুখ ফিরিয়ে থাকেননি। অরণ্যমধ্যে পরিত্যক্ত বাসভূমি সূর্যকান্ত আচার্যর হৃদয় আর্দ্র করেছে। ময়ূরভঞ্জের বর্ষার রূপ মুগ্ধ করেছে অক্ষয়কুমার চট্টোপাধ্যায়কে। অরণ্যের রূপ-রস-গন্ধকে না চিনলে হয়ত শিকারী হওয়া যায় না। অথচ, বন্যপ্রাণ—যা, অরণ্যেরই অংশ স্বরূপ, তা নিধনের পর এদের বিজয়-উল্লাস বড় পীড়াদায়ক। এমন মনস্তাত্ত্বিক বৈপরীত্য সম্ভব! এ কি, শিক্ষিত তথাকথিত সংস্কৃতিবান বাঙালির চারিত্রিক দ্বিচারিতা?
এ স্মৃতি-মালা বিগত যুগের মুষ্টিমেয় বাঙালির শৌর্য, বীরত্বের গৌরবগাথার নাকি, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ বিনাশের আঁধার ইতিহাসে বাঙালির লজ্জাজনক আখ্যান এবং একই সঙ্গে এক উৎকেন্দ্রিক দেশীয় অভিজাত শ্রেণীর স্বরূপ উন্মোচনের উপাদান, তা সমাজ-ইতিহাসে মনোযোগী পাঠক অনায়াসেই বুঝতে পারবেন। এই বইয়ে আমরা খুঁজে দেখতে চাই ঊনবিংশ-বিংশ শতকের ঔপনিবেশিক বাংলায় বিকলাঙ্গ সামন্ততন্ত্রের স্বরূপ।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.