জীবন ঘিরে কত না রহস্য! সেই রহস্যমালারা অক্ষমালা, পদ্মবীজের মালার থেকেও রহস্যময়। যে দীপ জ্বলে অন্ধকারে, সেই প্রদীপ-আলোয় এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, আছাড় খেয়ে মরে আলোপোকারা-যাদের বলা হয় শ্যামাপোকাও। যে পিদ্দিম আলোকে শোনা যায় মহানির্বাণের গান, বজ্রযান, সহজযান, সনাতনী হিন্দু-তান্ত্রিকপথ-সব কেমন যেন একাকার হতে থাকে রহস্যময়তা-হওয়া না হওয়া ত্রিপুগুরেখায়- জীবন সন্ধানে। যেটুকু আলো এসে যায় জীবন ঘিরে, তার সচকিত প্রবাহেই পাশাপাশি থেকে যায় সুতীব্র আঁধারিয়া অভিঘাত। বজ্রপাতের আলোয় হয়তো বা ধরা পড়ে নিগূঢ় শব সাধনার অভিরূপ। ছায়াচ্ছন্ন, পর্বত জাগানিয়া, সমুদ্র নিদ্রাতুর করা সাধনপথ জেগে থাকে মরমিয়া খেয়ালে। জীবন সঞ্চারের সঞ্চয়ের এই যে কপোত-কুহেলী, সেখানে থেকে যায় পঞ্চমকার, অভিচার, তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ, ‘চারুকেশী’ কি চিরযৌবনা? সাধারণভাবে যেমনটি হয়ে থাকে বাংলা গল্প উপন্যাস-আখ্যান কলায়? মহাকালের পায়ে বুড়ো আঙুলের টিপছাপ দেওয়া চারুকেশী তারসপ্তকে অথবা মন্দ্রসপ্তকে? মন্দ্রের নিগূঢ় বিন্যাসে। একি সেই? একি সে? এই কি রাগ ‘চারুকেশী’। কে জানে, কেই বা বলতে পারে সেই অতুল বৈভব কথা? বিচিত্র পথসন্ধানী আখ্যানকার কিন্নর রায়ের এ এক অভিঘাত সন্ধান।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.