ইতিহাস, সমাজবিদ্যা, লিঙ্গ-রাজনীতির মিশ্র আলোয় অসামান্য হয়ে আছে কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের গদ্যের ভুবন। তিনটি উপন্যাস এবং তিনটি প্রবন্ধগ্রন্থ—এটুকুই তাঁর গদ্য-উদ্যাপন। কবিতায় যেমন, তাঁর গদ্যেও তেমনই উজ্জ্বল হয়ে থাকে স্বতন্ত্র এক দৃষ্টি। পুরুষশাসিত সমাজে নারীর বিপন্ন অস্তিত্ব নিয়ে মল্লিকা বরাবরই যন্ত্রণাকাতর, তর্কমুখর। ‘সীতায়ন’ উপন্যাসে আর্য-রাষ্ট্রতত্ত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী তাঁর কল্পনার সীতা। ‘শ্লীলতাহানির পরে’ উপন্যাসে চিত্রিত হয় ধারাবাহিক নারী-লাঞ্ছনা ও আত্মপ্রতারণায় ভরা এই সমাজ। ‘কবির বউঠান’ উপন্যাসটি জীবনের অন্তিম পর্বে রচিত। অসুস্থ মল্লিকার কলমে ঠাকুরবাড়ির বিনির্মাণটি যেন তাঁর শেষ শ্রদ্ধা রবীন্দ্রনাথকে। হয়তো-বা অন্তরালে জেগে রইল সংবেদনশীল এক নারীর সংক্ষুব্ধ হৃদয়। মল্লিকার প্রবন্ধগুলিতে কোনও আড়াল নেই। ‘স্ত্রীলিঙ্গ নির্মাণ’ প্রবন্ধগ্রন্থে সরাসরি তুলে ধরেছেন পুরুষ-পৃথিবী নিয়ে তাঁর প্রশ্ন এবং নারী-স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা ও যুক্তিগুলি। ‘পুরুষ নয়, পুরুষতন্ত্র’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন ব্যক্তি নয়, ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ। ‘বিবাহ বিচ্ছিন্নার আখ্যান’ সমাজ ও সাহিত্যনির্ভর এক মননশীল গবেষণা। মল্লিকার ‘গদ্যসমগ্র’ প্রকৃতপক্ষে একটিই বই, একটি দীর্ঘ চেতনাপ্রবাহ। বলা যায়, একটি অবশ্যপাঠ্য মানবীবিদ্যার ভাষ্য, নিজের জীবন ব্যয় করে যা লিখে গিয়েছেন মল্লিকা।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.