ঊনবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে বাংলার সামাজিক ও চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অভিনব-বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন হুগলি জেলার বৈদ্যবাটি গ্রামে ভূমিষ্ঠ একাধারে কবিরত্ন ও চিকিৎসক পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত। ভারতীয় উপমহাদেশে তো বটেই, সমগ্র এশিয়ায় তিনিই প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করে কলকাতার মেডিকেল কলেজকে চিকিৎসাবিদ্যাশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মানচিত্রে স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী স্থানদান করেন। তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দুসমাজের রক্তচক্ষু-বিরোধিতাকে এবং রক্তবাহিত সংস্কারের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে তাঁর এই সাহসী শলাকাঘাত বাঙালিকে ধর্মীয় কুসংস্কারের নাগপাশ থেকে মুক্ত করেছিল। যুক্তিনির্ভর মুক্তবুদ্ধির জ্ঞানের জগতেও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল। রাজা রামমোহনের মতো ঊনবিংশ শতকে বাঙালির নবজাগরণে তাঁরও কৃতিত্ব কম নয় এবং তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন যে এখনও হয়নি- এই ভাবনার উপস্থাপনই এই উপন্যাস রচনার উদ্দেশ্য। পার্শ্বচরিত্ররূপে ডেভিড হেয়ার, রাজা রামমোহন রায়, মহারাজ রাধাকান্ত দেব, দ্বারকানাথ ঠাকুর, ডক্টর ব্রামলি, ডক্টর গুডিভ, ডক্টর ও’শনেসি, ডাক্তার নবকৃষ্ণ গুপ্ত প্রমুখকে উপস্থিত করা হয়েছে।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.