একটা মানুষের মধ্যে নানান মুখোশ পরে বসে থাকে আরও কতগুলো মানুষ? এই হিসেব করতে বসার সময় আর যারই থাক, আশি-নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা এবং আজকের মানসিকভাবেঅর্ধন্যুব্জ‘মিলেনিয়াল’দের নেই। গড়তা পড়তা মধ্যবিত্ত বাঙালী সমাজের নব্বই দশকের ছাত্রছাত্রীদের অনেকেরই নিজেদের অজান্তে,বা অনিচ্ছাতে পছন্দের কেরিয়ারের স্বপ্ন ছেড়ে শুধু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদেই তথ্যপ্রযুক্তির দরজায় ঘা দেওয়ার ঘটনা শুধুই কঠিন বাস্তব নয়, বলা যায় নিজেদের স্বপ্নের সম্পূর্ণ বিপরীত পথ ধরার এক অবিরাম অভ্যাসও বটে যা এখনও চলে যাচ্ছে। এ যেন এক অলটারনেটিভইউনিভার্স যেখানে লগ ইন আর লগআউটের মধ্যে ঘুরতে থাকা মন আর মস্তিষ্কগুলো যেন আটকা পড়েই আছে পলিটিকস, অ্যাপ্রেইজাল আর বিজনেস অ্যাজইউসুয়ালেরভুলভুলাইয়াতে। শিফটের শেষে যে ক্লান্ত আঙ্গুলগুলো নিজের স্বাভাবিক জীবনবৃত্তে ফিরতে চায়, তারা চেয়েও পায়না বাড়ির চেনা রাস্তা।
বাইরের পৃথিবীর কাছে এই তথ্যপ্রযুক্তি বা ইনফর্মেশনটেকনোলজির আসল ছবিটা স্পষ্ট হতে হতেও যেন হয়ে ওঠেনা। তাদের কাছে এই প্রয়োজনের উদ্বৃত্ত অর্থ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষারবুদবুদের বাইরে বহুস্তরীয় রাজনীতির জালে ফেঁসে থাকা অবয়বহীন প্রায় পঁয়ত্রিশ বছরব্যাপীজন্মানো, বড় হওয়া এবং প্রায় নিভে আসা একটা প্রজন্ম শুধু সামাজিক বর্জ্যপদার্থ ছাড়া কিছু নয়।
সেই প্রজন্মেরই নানা মানবিক ও অমানবিক ছবি তুলে ধরার চেষ্টার ফল এই উপন্যাস।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.