১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দ, পুরী: নীলাচলের গর্ভগৃহে আচমকাই মিলিয়ে গেলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। ভক্তরা বলল, তিনি জগন্নাথের অঙ্গে লীন হয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস ফিসফিস করে বলল অন্য কথা। ওটা কি অলৌকিক অন্তর্ধান ছিল, নাকি রাজনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কোনও গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন তিনি? পুরীর মন্দিরের পাণ্ডা, তৎকালীন ওড়িশার রাজনীতি এবং বৈষ্ণব সমাজের অন্তরালে চাপা পড়ে গেল সেই রক্তাক্ত অধ্যায়।
বর্তমান কাল, কলকাতা: দীর্ঘ পাঁচশো বছর ধরে ধুলো জমা সেই ‘কোল্ড কেস’-এর জট খুলতে চেয়েছিলেন বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর গবেষণাপত্র ‘কাঁহা গেলে তোমা পাই’-এর কাজ শেষ করার আগেই নৃশংসভাবে খুন হতে হল তাঁকে। আততায়ীরা কেবল তাঁকে হত্যাই করেনি, লোপাট করে দিয়েছে তাঁর সেই অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপিও। কী এমন বিস্ফোরক তথ্য ছিল তাতে, যা ধামাচাপা দিতে এত তৎপরতা?
ড. মুখোপাধ্যায়ের মূল পাণ্ডুলিপি চুরি গেলেও, সত্যকে কি পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়? এই বইয়ে লেখক ড. হিমাংশু দত্তচৌধুরী তিল তিল করে জুড়েছেন ড. মুখোপাধ্যায়ের রেখে যাওয়া অন্যান্য গবেষণার সূত্র, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নোটস এবং রেফারেন্সের টুকরো। এই সংকলনটি কেবল একটি বই নয়, এটি দুই শতাব্দীর দুটি অসমাপ্ত হত্যার তদন্ত।
আইনি জটিলতা এড়াতে এই বইটিকে ‘উপন্যাস’ বলা হচ্ছে। কিন্তু বুদ্ধিমান পাঠক ঠিকই বুঝে নেবেন, এই কাল্পনিক মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক হাড়হিম করা ধ্রুব সত্য।
সতর্কীকরণ: শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান এবং ড. মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু—দুটি ঘটনার শিকড় কি একই জায়গায় প্রোথিত? উত্তর খোঁজার দায় পাঠকের।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.