বিপ্রদাস পিপিলাই-এর ‘মনসামঙ্গল’ বাংলাসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বই। ষোড়শ শতাব্দীর এই বই বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অপরিহার্য ছাপ রেখেছে। মহাগ্রন্থটির সম্পাদিত সংস্করণ করেছিলেন অধ্যাপক সুকুমার সেন। এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত সেই বই-এর টাকা টিপ্পনী ইংরেজিতে লেখা বলে মাতৃভাষার পাঠকের পক্ষে রসগ্রহণ সামান্য ব্যাহত হচ্ছিল।
প্রফেসর অচিত্র্য বিশ্বাসের সমর্থ সম্পাদনায় মহাগ্রন্থটি সর্বস্তরের বাঙালি পাঠকের কাছে অবারিত হয়েছে। পাঠক সমাজের চাহিদা বেড়েছে। পালার প্রতিটি অংশের সঙ্গে পাঠান্তর প্রদর্শিত হওয়ায় নিষ্ঠাবান গবেষক-মনের অধিকারীর মননশীলতার চাহিদা সহজেই মিটেছে। অপরিচিত শব্দের প্রয়োগ ও অর্থ প্রদত্ত হয়েছে বইয়ের শেষ দিকে।
দেবী মনসাকে ঘিরে বাংলা তথা পূর্বভারতের লোকজীবনে দীর্ঘদিন ধরে চলে। আসা সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের পরিপ্রেক্ষিতটি গুরুত্বপূর্ণ ও জঙ্গম। এই জটিল পটভূমিটি ভুলে প্রফেসর অচিন্তা বিশ্বাস ‘মনসামঙ্গল’কে একটি বিচ্ছিন্ন সাহিত্যখণ্ড (লিটারারি টেক্সট) হিসাবে উপস্থিত করেননি। লৌকিক ও অভিজাত সংস্কৃতির টানা-পোড়েনে, দেশি ও আগন্তুক ভাবাদর্শের মিশ্রণে কেমন করে আমাদের সমতলভূমির কৃষি-কৃষ্টির সঙ্গে মনসামঙ্গলের কাহিনির উদ্ভব ও পরিণতি ঘটেছে— কেমন করে ‘কালেভালা’—- ‘আসডিওয়াল’ বা “গিলগামেশ জাতীয় মৌখিক মহাকাব্যের মতোই দেশে ও কালে বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে—তার রোমাঞ্চকর ইতিবৃত্ত এই বই।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.