চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে বিপুল খ্যাতি ও সাফল্য অর্জন করা সত্ত্বেও দীর্ঘ চল্লিশ বছরের কর্মজীবনে নিজের সম্পর্কে খুব কম কথাই বলেছেন তপন সিংহ, লিখেছেন আরও কম। ছবির মধ্য দিয়েই প্রকাশ করতে চেয়েছেন নিজের ভাবনা, নিজের দর্শন। প্রথম ছবি ‘অঙ্কুশ’ তৈরি করেছিলেন ১৯৫৩-৫৪য়, ঠিক যে-সময় সত্যজিৎ রায়ও প্রস্তুত হচ্ছিলেন ‘পথের পাঁচালী’ সৃষ্টির জন্য। নিজেই বলেছেন ‘অঙ্কুশ তেমন চলেনি’। কিন্তু, কয়েক বছরের মধ্যেই ‘কাবুলিওয়ালা’ তাঁকে এনে দেয় সর্বভারতীয় তথা বিশ্ব-পরিচিতি। তারপর আর ফিরে তাকাননি। বর্ণময় জীবনে সাফল্য যেমন পেয়েছেন, তেমনই পেয়েছেন ব্যর্থতাবোধ, দুঃখ ও ক্লেশের অভিজ্ঞতা। কর্মসূত্রে পেয়েছেন দেশের ও বিদেশের চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও সাহিত্যজগতের বহু বিখ্যাত ব্যক্তির সান্নিধ্য ও অন্তৰ্জীবনের পরিচয়। সত্তর বছর বয়সে লেখা তপন সিংহের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘মনে পড়ে’ তাঁর শৈশব ও ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে প্রায় ষাট বছরের অভিজ্ঞতার স্মৃতিমেদুর বৃত্তান্ত—এক অর্থে ওই সময়পর্বের চলচ্চিত্র জগতের রহস্যময় নেপথ্যলোকের ইতিহাসও। সরল, মার্জিত এবং অনুভূতির গভীরতায় আন্তরিক এক ভাষায় লেখা এই গ্রন্থ অভিজ্ঞতার ঐশ্বর্যে এনে দেয় প্রায় উপন্যাস পাঠের স্বাদ।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.