ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি ও সমাজনীতি প্রবন্ধে লিখছেন,
” সেবার দার্জিলিঙে চিত্তরঞ্জন ছিলেন। সন্ধ্যাবেলায় তিনি ক্যালকাটা রোডে বেড়াতেন, সঙ্গে অনেকে থাকতেন, নানা রকমের গল্প শলা পরামর্শ চলত।
একদিন আমিও ছিলাম। সেদিন কথা উঠলো রবীন্দ্রনাথের একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নিয়ে। সকলেই প্রশংসা করলেন চিত্তরঞ্জনেরও ভালো লেগেছিল। খানিকক্ষণ নীরব থাকার পর চিত্তরঞ্জন বললেন, “কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কবি।”
রাত্রে যখন হোটেলে ফিরলাম, ম্যানেজার বাবু এসে বললেন , স্বামী বিবেকানন্দের ছোট ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত সাহেবের থাকবার কষ্ট হচ্ছে অন্যত্র, আমার ঘরে যদি স্থান হয় তবে খুব সুবিধা হয়।
ভূপেনবাবু বহু বহু বছর বিদেশ বাসের পর সদ্য দেশে ফিরেছেন, মহা পন্ডিত ব্যক্তি, ‘যুগান্তরে’র ভূপেন দত্ত, বিবেকানন্দের ভাই সানন্দে সম্মতি দিলাম।
ভূপেনবাবুর সঙ্গে ভাব শীঘ্রই জমে গেল, রোজ ই একত্রে ঘুরতাম, খাবার পর গল্প চলত, আমি রাত্রে ঘুমের ওষুধ খেতাম, তিনি খোড়-তোলা জুতো পরে হাড়ির মতন পাইপ মুখে পুরে, জার্মান মিশ্রিত বাংলা ভাষায় বিশ্বের তত্ত্ব আলোচনা করতেন।
মনে পড়ে, এক গভীর রাতে তার বিছানা থেকে একটা শব্দ উত্থিত হল। নিজে বুঝিয়ে দিলেন, বাংলা গান রবীন্দ্রনাথেরই “অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া… রী”।
গান থামাবার পর জিজ্ঞাসা করলেন, “রবিবাবু আর এই ধরনের স্বদেশী গানটান লেখেন?”
উত্তর দিলাম, ” ঝোঁক একটু বদলেছে সন্দেহ হয়। কিন্তু ওটা কি স্বদেশী গান?”
বিস্ময়কর না। আমিও কখনো ভাবিনি। কিন্তু ভূপেন দত্তর মত একজন রাজনৈতিক তাত্ত্বিক মানুষের চোখে সেই ভাবনা প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন কি ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে?
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.