তৃতীয় লিঙ্গের একজন সফল মানুষ মুকুট। নিজের যোগ্যতা ও জেদের মণিকাঞ্চনযোগে সে সাফল্যের আকাশ ছুঁয়েছে। পুরুষ শরীর থেকে নিজেকে পরিপূর্ণ নারীরূপে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে সে। স্বজনদের প্রতি অভিমানে মুখ ফিরিয়ে বিদেশবাসী হয়েছে। কিন্তু মানবিক মুকুট যখন জানতে পারে তার স্ট্রাগল পিরিয়ডের অন্যতম ভরসার জায়গা, সম্পর্কে ভগ্নিপতি অসুস্থ হয়েছে, মুহূর্তে মান-অভিমান সরিয়ে রেখে দেশে ফেরে আর কাহিনি ছন্দ পায় অন্য গতিতে। জুঁইফুল আর-এক অন্যতম স্তম্ভ এ কাহিনির। আত্মসচেতন এই মেয়েটি যদিও ব্যক্তি-পরিচয়ে গভর্নেস, তবু সে তার চারিত্রিক উজ্জ্বলতার দ্যুতিতে ঝলমল করেছে কাহিনি জুড়ে। মুকুট দেশে ফিরে জুঁইফুলের মাধ্যমে খোঁজ পায় তেরো-চোদ্দো বছরের কিশোর শ্যাম-এর, যে কি না মুকুটের মতোই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। মুকুট শ্যামকে শ্যামাঙ্গী করে গড়ে তোলার ব্রত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাহিনির বাঁকে বাঁকে সমুদ্রের ঢেউ ভাঙা, উত্তল-অবতল, সমাজের দাঁত-নখ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে অন্য উপন্যাসগুলোর মতোই রমার তৈরি কাহিনিতে সেভাবে কোনও নেতিবাচক চরিত্র নেই। থাকে না। বরং শেষ পর্যন্ত একটা সদর্থক অনুভূতির সৃষ্টি করে। এখানেও সেটির ব্যতিক্রম ঘটেনি।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.