রুকু তার বাবার ইজিচেয়ারে পায়ের ওপর। পা তুলে আধশোয়া হয়ে মৌজ করে বই পড়ছে। মেঝেতে, অল্প দূরে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে সুকুর আদরের বেড়াল, শেলি। শুয়ে আছে নরম একটা আসনের ওপর। আর সুকু বসে আছে আর একটু দূরে, মেঝেতে, জানালার কাছে। বাবা তাকে ভীষণ একটা কাজের ভার দিয়ে গেছেন। সেই কাজেই সুকু ব্যস্ত। একটা ব্রাউন কাগজের ওপর নানা মাপের, বিভিন্ন আকারের টোব্যাকো পাইপ ছড়ানো। চকচকে একটা লোহার কাঁটা দিয়ে সুরু পাইপ পরিষ্কার করছে।
জকু পড়াতেই তন্ময়। সাংঘাতিক বই। আফ্রিকার গা-ছমছম-করা গভীর অরণ্যে গোরিলা বেরোল বলে। রুকুর ডান-পা মাঝে মাঝে দুলছে। দুলতে দুলতে একবার-দু’বার শেলির গায়ে লাগছে। এক পেট মাছ ভাত খেয়ে শেলির নেশা হয়ে গেছে। ঘুমে একেবারে কাদা। রুকুর পা লাগলেও ঘুমের কোনও অসুবিধে হচ্ছে না। রুকু বুঝতে পারছে মাঝে মাঝেই তার ডানপায়ের বুড়ো আঙুলটা নরমমতো কী একটার ঠেকে নিরে আসছে। বইয়ের পাতা থেকে চোখ তুলে দেখার মতো অবস্থায় সে নেই।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.