সেই যে গীতায় বলা হয়েছিল শরীর এতই থার্ড ক্লাস জিনিস যে তাকে জীর্ণ বস্ত্রের মতো ত্যাগ করে আত্মা নতুন বস্ত্র ধারণ করার মতো নতুন শরীরে প্রবেশ করে, তারপর সেটাকেও ছিঁড়ে-কুটে বেরিয়ে যায়– আমরা কি আজও সেটাকেই ধরে বসে আছি? আবার অন্যভাবে দেখলে ওই শ্লোকের অন্য মানেও হয়—আত্মারও শরীরের পোশাক লাগে; উলঙ্গ আত্মাকে দিয়ে কারোই বিশেষ সুবিধা হয় না। এইসব শরীরী ভাবনা থেকে এই বই, যার গোড়ার কথা একদিকে খুবই সরল ও বেসিক – শরীরধারী মানুষরা নিজের শরীর নিয়ে কী ভাবেন? সেই ভাবনা কতোটা শরীরী এবং কতোটা বা অশরীরী? সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি কি এসে পড়ে মানুষের শারীরিক চিন্তাভাবনার মাঝখানে? আপন শরীরের সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ তৈরি হয় কি সেখান থেকেই? নিজের শরীরকে অপছন্দের পিছনে, বা পছন্দসই করে মেলে ধরার পিছনেও কি আছে অশরীরী তৃতীয় কোন কিছুর নিয়ন্ত্রণ? মানুষ খুব একান্ত স্পেসে যদি থাকতে পারতো তার নিজের শরীরের সঙ্গে তবে কেমন হত? ভিন্ন ভিন্ন আর্থ-সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কুড়ি জন নানা বয়স ও পেশার মানুষের আপন শরীরী অভিজ্ঞতা এবং ভাবনা-চিন্তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এই বইয়ে। এক বিরল সাহসিকতার দলিল হিসেবে সম্মান পাবে এই বই সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.