শ্রীধনঞ্জয় দাশ মজুমদার পুরাতত্ব বিশারদ, কবিরত্ন প্রণীত
সম্পাদনায় ড. শিশুতোষ সামন্ত ও ডা. দুলালকৃষ্ণ দাস
প্রত্নতাত্ত্বিক ও বেদশাস্ত্রমতে বঙ্গদেশের সভ্যতা সুপ্রাচীন। পৃথিবীর আদি সভ্যদেশের ইতিহাস মতে বাঙালী জাতির শৌর্য্য, বীর্য্য ও উদ্ভাবনী শক্তি জগত প্রসিদ্ধ। হিন্দুর বিশিষ্ট শাস্ত্রমতে রাজতন্ত্রের স্রষ্টা বৈবস্বত মনু কন্যা ইলা ও জামাতা চন্দ্রের পঞ্চম অধস্তন সন্তান চন্দ্রবংশীয় ক্ষত্রিয় যযাতিনন্দন অনু প্রতিষ্ঠিত গাঙ্গেয় উপত্যকায় অবস্থিত দেশকে ধান্য উৎপাদক দেশার্থে ঋগ্বেদে কলিঙ্গ দেশনামে অভিহিত করা হইয়াছে। এই দেশবাসী অনুর বংশধর ক্ষত্রিয়দিগকে ধান্য উৎপাদক দেশবাসীও রাজন্য অর্থে ঋগ্বেদে কালিঙ্গ এবং বিষ্ণু ভক্তার্থে দাস নামে অভিহিত করা হইয়াছে। মহারাজা অনুর দ্বাদশ অধস্তন সন্তান মহারাজা বলি, এই কলিঙ্গ দেশ অঙ্গ, বঙ্গ, সুম্মা, পুণ্ড্র ও কলিঙ্গ নামে পাঁচভাগে বিভক্ত করিয়া গাঙ্গেয় উপত্যকার গঙ্গানগরে রাজাধিরাজের রাজধানী স্থাপন করেন এবং এই পঞ্চদেশে তাঁহার সন্তানগণ দ্বারা রাজধিরাজের রাজধানী স্থাপন করেন এবং এই পঞ্চদেশে তাঁহার সন্তানগণদ্বারা রাজাধিরাজের অধীন সন্ধিবদ্ধ স্বাধীন সামন্তচক্র গঠনের ব্যবস্থা করেন। এই বলি বংশধর রাজগণের সামন্ত চক্রের ময়ূরধ্বজের মৌর্যা বংশের রাজা বিশ্বস্ফানিকে সমগ্র ভারতবাসী ভারত হতে বৈদেশিক শত্রু, ইহুদী, পার্শি তাতার, ইউচি ও মঙ্গোলীয়ান অভিযান নিরোধ করিবার জন্য ভারত সম্রাট পদে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি তাঁহার চন্দ্রবংশীয় ক্ষত্রিয় যজুর্ব্বেদোক্ত ধান্য উৎপাদক দেএই বলি বংশধরগণের নিকট হইতে পঞ্চ রাজ্য অধিকার করেন। এই ইতিহাসে তাহার পরিচয় দেওয়া হইয়াছে। ভারতের সিপাহী বিদ্রোহের পর ইংরাজ ঐতিহাসিকগণ বাংলার মুসলসমান ও ইংরাজ অভিযনের পঞ্চম বাহিনীর হিন্দুগণের বংশধর ঐতিহাসিক ও সংস্কৃত পণ্ডিতের সাহায্যে ইতিহাস উদ্ধারের ছলনায় ভারতে ইংরাজ রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠার জন্য বাংলার এই প্রকৃত সামরিক জাতিকে তাহাদের সর্ব্ব ভারতের প্রবাসী স্বজাতি রাজপুতগণের সহিত চির বিচ্ছিন্ন করিবার জন্য কিরূপে জাল জালিয়াতির দ্বারা বাংলার ও সর্ব্বভারতের এই ক্ষত্রিয়জাতিকে অনার্য্য সাজাইয়া তাঁহাদের স্থানে শকদিগকে সামরিক জাতি সাজাইবার জন্য যে মিথ্যা ইতিহাস লিখিয়া ছিলেন এবং সেই মিথ্যা ইতিহাসে ভারতের ও বাংলার কি কি সর্বনাশ হইয়াছে তাহার প্রমাণ সহ মুসলমান যুগের সত্য ইতিহাস আলোচ্য গ্রন্থে লিখিত হইল।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.