আত্মানন্দ-শশধর রায়ের হেফাজতে আছে কি কোনো জার্মান মাউজার? একটা নয়, দু দুটো? যে জার্মান মাউজার লুঠ করেছিলেন বাংলার বিপ্লবীরা, তারপর সেই মাউজার পিস্তল ছড়িয়ে পড়েছিল অখণ্ড ভারতের বিভিন্ন গুপ্তসমিতির গোপন ডেরায়। এই মাউজার নিয়েই ওড়িশার বুড়িবালাম নদীর তীরে চার্লস টেগার্ট ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন বাঘাযতীন, চিত্তপ্রিয়, জ্যোতিষ, মনোরঞ্জনরা। শশধর রায়ের কাছে এখনও কি আছে জার্মান মাউজার পিস্তল? প্রশ্নটি করেন কানুচরণ লেংকা-ওড়িশার ‘সমাজ’ নামে দৈনিকের সাংবাদিক হিসাবে। শশধর কোনো জবাব দেন না। এমন না বলা কথার বহু আখ্যান মোচড় এই নির্মাণের ভাঁজে ভাঁজে। অতি দারিদ্র, অর্থাভাবের মধ্যেও কোনো রকমভাবে মাথা না নোয়ানো শশধর রায়, তাঁর ছোটভাই-শশধরের ডাকের ভাইদাদা হরিপদ রায়। হরিপদর শিক্ষক জীবন, খামখেয়ালিপনার জন্য একের পর এক পাকা চাকরি ছাড়া, আবার নতুন চাকরি, অখণ্ড বঙ্গের ফরিদপুর থেকে উত্তর কলকাতার লক্ষ্মী দত্ত লেনে হেরম্ব কবিরাজের বাড়ি একখানা ঘরে তিন কন্যা, এক পুত্র নিয়ে ভাড়া বাসায়। একের পর এক ছয় কন্যার বিবাহ দেওয়া, নিজের তিনটি মেয়ে, ভাইদের তিনটি, প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়া হরিপদর কলোনি জীবন, যদিও এই অন্ধতার অভিঘাত নেই এই আখ্যানে-১৯৫০-১৯৫২ সালের বাজারদর, বাঙালির খাওয়ার বিভিন্ন উপাদান, পশ্চিমবঙ্গবাসীদের বাড়িতে ‘বাঙাল’ এলে দেখতে আসা, উদ্বাস্তু কলোনি, রিফিউজি জীবন-সবই এই আখ্যানের সচল মেঘ অথবা ছুটন্ত রৌদ্র।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.