তারাশঙ্করের সঙ্গে দেখা করার জন্যে লেখক বিমল মিত্র প্রথম আলাপ করতে গেছেন। কথা প্রসঙ্গে তারাশঙ্কর কটু করে তাঁকে বললেন, ‘লাইব্রেরিতে বসে কলকাতার ইতিহাস পড়ে বই লিখলে হবে না, আধুনিক জীবন নিয়ে লিখতে হবে।’ তাতে তিনি কি বদলে ছিলেন। ‘মন কেমন করে’ বইটিতে শুরুই হয়েছে ‘বলাই সুর বাই-লেন’ দিয়ে। বৌবাজার, ভবানীপুর, বাদামতলা, কালীঘাট, ভবানীপুর জোড়া কাহিনি দিয়ে সেই পুরনো কলকাতা। তার দুই বাসিন্দা-সুরেশ্বরীদিদি আর পেনশন পাওয়া তাঁর অন্ধ শ্বশুরের জীবন দিয়ে শুরু। একটি ছেলে তাঁর খোকন। পেল্লাদ চৌধুরী বিশাল ধনী ব্যবসাদার-তাঁর দরোয়ান ‘বিশ্বস্ত’ চৌবে। চৌধুরী মশায়ের নাতনির কানের দুল চুরি করে বসল। এসব পারিবারিক কথা। অভাব-অনটন, শারীরিক ত্রুটি, অবিশ্বাস, খোকনের জীবনের অস্থিরতা, জীবনের ক্ষত ও ক্ষতির পাশে প্রেমের যে আকর্ষণ এবং না পাওয়ার বেদনা তা এই উপন্যাসকে পাঠকের প্রিয়ভাজন করে তুলেছে। প্রেম আছে-মিনির বুকে ফোঁড়া, তাতে সান্ত্বনা দেওয়ার ছলে স্পর্শ, তার বিয়ে হওয়া-মিনির সন্ধানে একটা বিপুল ধাঁধা, এই প্রিয়মানতা রসময়, দুঃখভরা। শেষ পর্যন্ত এক চিকিৎসকের মৃত্যু দিয়ে বেদনার পরিপূর্ণতা।
হারিয়ে যাওয়া উপন্যাস আবার পাঠকের সম্পদ হবে।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.