তন্ত্র কেবল কিছু গোপন জাদুকরী ক্রিয়াকলাপ নয়; এটি আকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতা এবং পরম নারীসত্তার এক সুশৃঙ্খল দর্শন। মোহিনীরূপী ঐশ্বরিক প্রলোভন কীভাবে মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ন্যাসীকেও পরাস্ত করে, কিংবা নীলাচল পাহাড়ের রক্তস্নাতা দেবী কীভাবে প্রকৃতি ও ধর্মের মেলবন্ধন ঘটান—এই সবকিছু নিয়েই গড়ে উঠেছে ভারতীয় তন্ত্রের এক রহস্যময় জগৎ।
ড. হিমাংশু দত্তচৌধুরীর এই গ্রন্থ ভারতের গুপ্ত তন্ত্রসাধনার সেই গোলকধাঁধা পেরিয়ে এক অভাবনীয় যাত্রা শুরু করে। ‘পাঞ্চালিকা ইন্ডোলজি’ সিরিজের অন্তর্গত এই বইটি মূলত ‘কামশাস্ত্র বা মোহিনীতন্ত্র’ নামক বৃহৎ গবেষণার দ্বিতীয় বা তান্ত্রিক খণ্ড। এখানে মোহিনী-তন্ত্র, ত্রিপুরাসুন্দরী এবং বামাচার ও দক্ষিণাচার তন্ত্রধারার মতো নিগূঢ় বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সুগভীর দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কেবল শাস্ত্রীয় তত্ত্ব নয়, বরং কামাখ্যার অম্বুবাচী মেলার সরেজমিন অভিজ্ঞতা এবং বাংলার নিজস্ব তন্ত্রধারার এক জীবন্ত চালচিত্র উঠে এসেছে এই বইয়ের প্রতিটি পাতায়। দেবীশক্তির স্বরূপ বুঝতে লেখক আমাদের নিয়ে যান সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের একেবারে শিকড়ে, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই বইয়ে পাঠক খুঁজে পাবেন:
- মোহিনী-তন্ত্রের অন্তর্নিহিত দর্শন এবং শিব ও মোহিনীর আখ্যানের তান্ত্রিক ব্যাখ্যা।
- নীলাচল পাহাড়ের কামাখ্যা মন্দিরের রক্তস্নাতা দেবীর উপাখ্যান এবং অম্বুবাচী মেলার সরেজমিন অভিজ্ঞতা।
- তন্ত্রসাধনার অন্যতম ভিত্তি ষট্কর্ম (মারণ, উচাটন, বশীকরণ, স্তম্ভন, বিদ্বেষণ ও সম্মোহন) এবং সম্মোহনের তান্ত্রিক উপায়ের বিশদ আলোচনা।
- বামাচার ও দক্ষিণাচার তন্ত্রধারার পার্থক্য এবং বাংলার নিজস্ব তন্ত্র-ঐতিহ্যের এক অনন্য রূপরেখা।
- ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরী ও মায়ার সৃজনশীল শব্দরূপ ‘হ্রীং’ বীজমন্ত্রের নিগূঢ় রহস্যভেদ।
পাণ্ডিত্য ও ক্ষেত্রসমীক্ষার সাবলীল মেলবন্ধনে লেখা এই গ্রন্থ ভারতীয় গুপ্ত তন্ত্রসাধনা এবং মোহিনীরূপী ঐশ্বরিক শক্তির এক প্রামাণ্য দলিল, যা পাঠকের চিন্তার জগৎকে নতুনভাবে আলোড়িত করবে।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.