আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিসের লেসবসে জন্ম হয়েছিল প্রভূত প্রতিভাময়ী কবি স্যাফোর। শেক্সপিয়ার এবং বিশ্ববরেণ্য ল্যাটিন ভাষার কবি হরেস ও ক্যাটালাস (কাটুল্লুস) ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন স্যাফোর পলায়মান সময়, মৃত্যু-সচেতনতা, প্রেম ও তাঁর সৌন্দর্য-চেতনার দ্বারা। প্রাচীন পুরুষতান্ত্রিক গ্রিসীয় সমাজে নারী ছিল সম্পূর্ণরূপে অবদমিত ও শাসিত। অথচ স্যাফো সে যুগের, সেই সমাজের কন্যা হয়েও তাঁর প্রতিভার জাদুবলে প্রভূত প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। স্যাফোকে বলা হয় (এবং সেকালেও বলা হত) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম। তিনি প্রায় দশ হাজার লাইনের মতো কবিতা রচনা করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কাছে কালস্রোতে নেমে এসেছে মাত্র সাড়ে ছ’শো লাইনের মতো। একটা সময়ের পর স্যাফোর কবিতারা হারিয়ে গিয়েছিল। যদিও তার কারণ জানা যায় না ঠিক করে। কারও কারও মতে তাঁর কবিতায় প্রকাশিত দুরন্ত সমকামী প্রেমের জন্যই বুঝি-বা ধ্বংস করা হয়েছিল স্যাফোর কবিতাকে। তবে আসল সত্যের সাক্ষী সেই সুদূর অতীতকাল শুধু। তবে বহু বছরের প্রাচীন একটি জঞ্জালস্তূপের খননকার্য ইজিপ্টে চলাকালীন মাটির নীচ থেকে, বহু শতাব্দীর ঘুম ভেঙে উঠে আসে ছিন্নভিন্ন, নষ্ট-অস্পষ্ট প্যাপিরাসে লেখা স্যাফোর ছেঁড়া ছেঁড়া কবিতারা। পৃথিবীর বুকে ঘটে এক বহুকাঙ্ক্ষিত কবিতার পুনরাগমন।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.