পর্যটকের যাঁরা নিউজলপাইগুড়ি হয়ে কালিম্পং অথবা গ্যাংটকের দিকে যান পাহাড় উপত্যকার গা বেয়ে বেয়ে কিছুটা পথ তাঁদের সঙ্গী হয় তিস্তা৷ এই তিস্তা সবসময়ই যৌবনবতী৷ তার যাবতীয় রূপ সৌন্দর্য যেন উজার করে দিচ্ছে পর্যটকদের৷ কিন্তু এ তো পাহাড়ি তিস্তা৷ এই তিস্তাই যখন সমতলে নেমে জলপাইগুড়ি পৌঁছয় তার তখন অন্যরূপ, এমনকি বদলে গেছে রঙও৷
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে যাঁরা আরো উত্তরের দিকে যান অর্থাৎ আলিপুরদুয়ার অথবা আসামের দিকে, তাঁদের তিস্তা ব্রিজ পার হতে হয়৷ আগে এইভাবে সরাসরি যাওয়া যেত না৷ ব্রিজ হবার পর ট্রেন সরাসরি যায়৷ প্রথম দিকে মিটার গেজ ছিল, অনেকদিন হল ব্রড গেজ হয়েছে৷ জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যখন ভর্ত্তি হতে এসেছিলাম, অতিথি হয়েছিলাম সাহিত্যিক সুরজিৎ বসু-র বাড়িতে৷ ওঁর ভাই সাইকেল করে গিয়ে তিস্তাপাড় থেকে বালিহাঁস মেরে এনেছিলেন যা আমাদের নৈশাহার আরো বর্ণময় করে তুলেছিল৷ ফলত ছাত্র হিসেবে জলপাইগুড়ি থাকতে এসে আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তিস্তাপাড়ে যাওয়া৷ সঙ্গী সাথীর প্রথম সুযোগেই সাইকেল নিয়ে আমাদের হস্টেল থেকে আট কিমি পথ অতিক্রম করে তিস্তায় এসে পৌঁছলাম৷ অনেকটাই হতাশ হয়েছিলাম৷ কোথায় তিস্তার সেই যৌবন? এ তো এক লোলচর্ম বৃদ্ধা যে নিজেই নিজেকে বইতে পারে না৷ মনে হল এ যেন তিস্তার ছায়া, কারা যেন চুরি করে নিয়ে গেছে আসল তিস্তাকে৷
সেই তিস্তাকে নিয়ে একটা সংকলনের কথা সম্পাদকেরা ভেবেছেন এটাই প্রশংসার্হ্য৷ সাতাশজন লিখেছেন তিস্তাকে ঘিরে তাঁদের অভিজ্ঞতা অনুভূতির কথা, তা তিস্তার দীর্ঘ প্রবহমানতায় এক অমূল্য সংযোজন৷ তিস্তা শুধু মানবজীবনকে পরিপুষ্ট করেনি, বাংলা সাহিত্যকেও নানানভাবে রসদ জুগিয়েছে৷
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.