বাবুর বুকের ভিতর আছে এক আশ্চর্য দিঘি, যা তারই ইচ্ছামতো নিজেকে নিতা গড়ে ভাঙে। সে দিঘির পাড়ে যে কোনও মানুষ তার পছন্দের গাছ হয়ে গজিয়ে উঠতে পারে! জীবনের নানা বাঁক, ওঠা-পড়া সে মানিয়ে নেয় ওই দিঘিকে আশ্রয় করে। তার ভিতরে অবশ্য থাকে আরও একজন। সে ছেলেটা ডানপিটে। সাহসী। মারকুটে। বড্ড আলাদা, কিন্তু তার সঙ্গে জুড়ে থাকে আজীবন। আর তার আছে এক প্রকাণ্ড পরিবার। অরণ্যের মতো প্রাচীন এবং গহন সেই পরিবারে সবার অভিভাবক বীণাপাণি, তার ‘ঠাম্মা’।প্রেম তাকে বিষণ্ণ করে। একগুঁয়ে দ্বন্দ্ব পিছু ছাড়তে চায় না তার। কিন্তু তার মনে সতত জেগে থাকে সেই অমোঘ বাক্য- জীবনকে কোনও একটা জায়গা থেকে দেখতে দেখতে সাদামাটা মনে হলে জায়গা বদলে নিতে হয়।এই উপন্যাস আসলে মফস্সলের বালক বাবুর বিশ্বযাত্রা-অভিলাষের আখ্যান। সে যাত্রা কখনও কলকাতা হয়ে পাড়ি দেয় সুদূর ম্যানহাটানে। কখনও বা গহীন মনে ডুবুরির মতো ডুব দিয়ে সে সংগ্রহ করে বিধুর জীবনবোধ, নানা সম্পর্কের সমীকরণ, আবছা স্মৃতি। অতীত-বর্তমান মিলেমিশে তৈরি হয় এক অত্যাশ্চর্য বাস্তুতন্ত্র, এক সময়-হারানো যাত্রাপথ। এই উজানযাত্রা ঠিকানা খোঁজে না, খুঁজে বেড়ায় জীবনের শাশ্বত অর্থ।
Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.