Posts

মা – অভীক সরকার

‘মা’ শব্দটা বিশ্বের সমস্ত ভাষায় প্রায় একইরকম। সংস্কৃতে ‘মাতৃ,’ ইংরাজিতে ‘মাদার,’ বাস্কে ‘আমা,’ স্প্যানিশে ‘মাদ্রে,’ মাল্টেসে ‘অম্ম,’ ম্যান্ডারিনে ‘মা,’ ভিয়েত্নামিজে ‘মে,’ হিব্রুতে ‘ইমা,’ সোয়াহিলিতে ‘মামা,’
এদের মধ্যে কমন কী বলুন তো? ওই ‘ম্’ ধ্বনিটা। না, হয়তো সব ভাষাতে এই ‘ম্’ ধ্বনিগত সাধারণ বৈশিষ্ট্যটা নেই, কিন্তু যতগুলোয় ভাষায় আছে, সেটা ভাবতে গেলেই আশ্চর্য লাগে বৈ কী!
তাহলে, ব্যাপারটা এল কীভাবে?
ব্যাপার হচ্ছে, ‘ম্’ এমন একটা ধ্বনি, বাচ্চারা যেটা সবার প্রথমে উচ্চারণ করতে শেখে। সেই সঙ্গে শেখে আরও কয়েকটা ধ্বনি— ব, ন, দ।
খেয়াল করে দেখুন, ‘বাবা’ আর ‘মা’ শব্দের মধ্যে — প্রত্যেকটা ভাষাতেই— এই ধ্বনিগুলোর কতটা সাযুজ্য রয়েছে।
একটু যদি ইন্টারনেট সার্চ করেন, তাহলে সেই মিলটা খুঁজে পেয়ে আপনি অবাক হতে বাধ্য!
ইংরেজি যাঁদের মাতৃভাষা, সেই সমস্ত বাবা-মায়েরা যখন শুনতে পান, তাঁদের সন্তান প্রথম কথা বলতে শেখার সময় শব্দ নিয়ে নাড়াঘাঁটা করছে, তখন তাঁরা অনুমান করেন, বাচ্চার শেখা প্রত্যেকটা শব্দই ‘মাদার’ বা ‘ফাদার’ শব্দদুটো শেখার ফলেই আসছে।
এই যুক্তিটা মোটামুটি সব ভাষাভাষীর মানুষের ক্ষেত্রেই দেওয়া যায়।
আরও একটা কথা—- মাদার, ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার, প্রত্যেকটা শব্দকে দেখুন, শেষে একটা টিইআর পাচ্ছেন। কারণ, ইংরেজি সব অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষাগুলো যেখান থেকে এসেছে, সেই প্রোটো-ইন্দো-ইয়োরোপীয় ভাষায় ‘ter’ অনুসর্গ যোগে আত্মীয়তা বোঝানো হত।
প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় মাদার শব্দের উচ্চারণ ছিল— মাতের।
মানে, সব ছেঁটে কেটে রইল কিন্তু সেই ‘মা’ শব্দটাই।
ভেবে দেখুন, সেই ছ’হাজার বছর আগেও কিন্তু প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় একটা শিশু এই শব্দটাই উচ্চারণ করেছে।
সেই অমোঘ, আদরের শব্দ—
মা!
মা আসছেন। আর মাত্র পঁচাত্তর দিন বাকি 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *