Posts

লীডার – অভীক সরকার

আমরা যারা কর্পোরেট জগতে চাকরি করি তার সব সময়েই চাই নিজেকে কোনো কোম্পানির উঁচু পদে পৌঁছতে। সে হতে পারে জেনারেল ম্যানেজার, ভাইস প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট -এর পদ। তবে একটা কথা জেনে রাখুন, এই সব পদে উন্নীত হতে গেলে ফাংশনাল এফিশিয়েন্সি হচ্ছে হাইজিন ফ্যাক্টর, মানে ধরেই নেওয়া হবে যে ওই গুণটা তোমার আছে, নইলে এই পর্যায় অবধি পৌঁছতে পারতে না। তবে তার থেকেও ইম্পর্ট্যান্ট হচ্ছে লীডারশিপ কোয়ালিটি আর ইমোশনাল কোশেন্ট। কম্পানী ওই দেখেই লোকজনকে ওই লেভেলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয়।
কী সেই কোয়ালিটি আর কোশেন্ট জানতে চান? যেতে চান ওই সর্বোচ্চ পর্যায়ে? তাহলে আজ থেকেই এই দশটি পয়েন্ট মেনে চলা শুরু করুন-
১. সব কাজ নিজে হাতে করা বন্ধ করুন। নিজের টীমের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিন। তাদের দায়িত্ব নেওয়া শেখান। তাদের কাজের রেগুলার রিভিউ করুন। তারা ভুল করবে আর শিখবেও। লোকে ওভাবেই শেখে। সেইজন্যেই কাজ ভাগ করাটা বিশেষভাবে জরুরি।
২. নিজের টীমকে শক্তিশালী করুন। যথোপযুক্ত ট্রেনিং দিন তাদের। সময়মতো ফীডব্যাক দিয়ে তাদের উন্নতির পথ তৈরি করুন। দেখবেন আপনার টীমই আপনার উন্নতির পথ তৈরি করে দেবে।
৩. নিজের রাগ/বিরক্তি ইত্যাদি আবেগ বশে রাখুন। দ্বিতীয় রিপুর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা কোনও কাজের কথা নয়। তাতে আপনার টীম আপনাকে ভয় পেতেই পারে কিন্তু শ্রদ্ধা করবে না। ভয় থেকে শুধু আতঙ্ক আসে, শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা নয়। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট লেভেলে কিন্তু ঠাণ্ডা মাথার লোক চায় কম্পানি। ফলে হুটহাট করে রেগে গেলে আপনারই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।
৪. কঠিন পরিস্থিতিতে স্থির থাকা শিখুন। আপনার কম্পানি এমন একজন লীডার চায় যে সবচাইতে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সব কিছু ছড়িয়ে না ফেলে, মাথা ঠান্ডা রেখে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই সিদ্ধান্ত ঠিকও হতে পারে, ভুলও হতে পারে। কিন্তু চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ লীডারশিপ কোয়ালিটি। আপনার টীমেরও তেমন মানুষ দরকার যে সমস্যার মধ্যেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
৫. ম্যাক্রো লেভেলে ভাবুন আবার প্রয়োজনমতো মাইক্রোলেভেলেও বিচার করুন। ব্যবসাকে সবরকম পরিস্থিতিতে বিচার করাটাই আপনার বহুমুখী প্রতিভাকে প্রমাণ করে।
৬. নিজেকে সময়ের আগেই আপডেট করুন। একটা লেভেল আগে গিয়ে ভাবুন এবং নেতৃত্ব দিন। আপনার কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবশ্যই সেটা লক্ষ্য করবে এবং আপনাকে পদোন্নতির জন্য ভাববে।
৭. নেটওয়ার্ক বাড়ান। কোম্পানির ভেতরে এবং বাইরে দুই জায়গাতেই সেই ধরণের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখুন যারা আপনার সহায় হবে। কূটকচাল বা পলিটিক্স করার মতো বন্ধু নয়, প্রকৃত বন্ধু বানান।
৮. লীডারদের বড় গুণ হচ্ছে কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে সামনের মানুষের সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করা। বোঝার চেষ্টা করুন সামনের মানুষটি যে ধরণের আচরণ করছে না যা বলছে তার ব্যাকগ্রাউন্ড কী। তাকে তার পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ধরে তার কথা ভাবুন। সবার সব কথা আক্ষরিক অর্থে নেবেন না।
সমস্ত কথিত ঘটনার সম্ভাব্যতা/অসম্ভাব্যতা নির্মোহ যুক্তির কষ্ঠিপাথরে বিচার করে নেবেন। সবার সব কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না, সব দিক বিচার করে পরিপূর্ণভাবে নিঃসন্দেহ হলে তবেই তথ্য/উপাত্ত মেনে নেবেন।
৯. চিন্তা কখনও একমুখী করবেন না। মনের জানালা খোলা রাখবেন। অন্যদের মতামত নিন। তাদের থেকে সেরা বিশ্লেষণগুলো তুলে নিন। আপনার ঘোষিত বিরোধীদেরও বক্তব্য শুনুন। এতে আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে।
১০. সর্বোপরি, নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি সম্পূর্ণ নজর রাখুন। অজুহাতের পাঁকে কিন্তু নতুন ভাবনার পদ্ম জন্মায় না। প্রবলেম নয়, সলিউশনের দিকে লক্ষ্য রাখুন। ‘কেন সম্ভব না’ শোনার জন্য কম্পানি আপনাকে মাইনে দেয় না। তারা মাইনে দেয় ‘কী করে সম্ভব’ সেই প্ল্যান শোনার জন্য। নিজের টীমকে সেই কর্তব্যসমাপনের উদ্দেশ্যে জাগরিত করুন, সক্ষম করুন, সাহসী করুন, তারা আপনাকেই লীডার বলে মেনে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *